কিসমিস এর উপকারিতা
কিসমিসের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। শুধুমাত্র কিসমিস নয়, কিসমিসে ভেজানো পানীয় শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং রক্ত উৎপাদনে কিসমিস অত্যন্ত কার্যকরী। কিসমিসের পুষ্টিগুণ অত্যন্ত বেশি যা অন্যান্য খাবারের নেই। এতে রয়েছে ভিটামিন, পলিফেরন, ফাইবার, খনিজ পদার্থ, ফাইটো নিউট্রিয়েন্টস ও এন টি অক্সিডেন্ট।আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী একটি উপাদান। কিসমিসের পুষ্টিগুণ অনে। ভিজিয়ে রেখে কিসমিস খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করে এবং শরীরে পুষ্টির যোগান দেয়।
পোস্ট সূচিপত্রঃ কিসমিস এর উপকারিতা
- কিসমিস
- কিসমিসের পুষ্টিগুণ
- কিসমিসের উপকারিতা
- কিসমিসের অপকারিতা
- কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা
- প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত
- সেক্সে কিসমিসের উপকারিতা
- রাতে ঘুমোনোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়
- শেষ কথা
কিসমিস
শুকনো আঙ্গুর বা কিসমিস। অনেকেই বিভিন্ন খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করতে এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে কিসমিস ব্যবহার করে থাকে। এই কিসমিসের রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। শরীরের সাধারণ দুর্বলতা দূর করা সহ ক্যান্সার প্রতিরোধেও কিসমিস অবিশ্বাস্য ভূমিকা পালন করে। শক্তি ও ক্যালরির চাহিদা পূরণ করতে কিসমিসের ব্যবহার অত্যন্ত চমৎকার।
কিসমিসের পুষ্টিগুণ
মিষ্টি জাতীয় এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি। ফসফরাস, সোডিয়াম, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, জিংক, ভিটামিন বি৬ ও কার্বোহাইড্রেট। যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
ভিটামিনঃ
কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি২ ও ভিটামিন বি৩ এবং ভিটামিন বি৫ রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এছাড়াও ভিটামিন সি আমাদের শরীরে ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করে এবং ভিটামিন কে এর চাহিদা পূরণ করে।
প্রোটিনঃ
আপনি জেনে অবাক হবেন যে কিসমিসের প্রায় মাংসের সমপরিমাণ প্রোটিন রয়েছে যা আমাদের শরীর গঠনে সহায়তা করে।
ক্যালসিয়ামঃ
কিসমিসে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম যা আমাদের শরীরের হার ও দাঁত গঠনে অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এবং বয়স্ক মহিলাদের জন্য এটি অত্যান্ত কার্যকরী। বয়স্ক মানুষের খাবারের প্রতিদিন কিসমিস দেওয়া উচিত কারণ তাদের শরীরে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমে যায়।
ফাইবারঃ
গবেষণায় দেখা গিয়েছে কিশমিশে যথেষ্ট পরিমাণ ফাইবার রয়েছে যেটি আমাদের হজম ক্রিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। নিয়মিত কিসমিস খেলে পেটের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
ক্যালোরিঃ
প্রতিদিন সকালে দুই থেকে তিনটি কিসমিস খেলে আপনি সারাদিন কাজ করার সমপরিমাণ ক্যালোরি পাবেন। কিসমিস হলো ক্যালরির অন্যতম উৎস।
কোলেস্টেরলঃ
কিসমিসের কোন প্রকারের কোলেস্টেরল বা ফ্যাট থাকে না যার ফলে এটি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেন। যারা ডায়েট করছেন তাদের জন্য এটি বেশ উপযোগী। এটি আপনার ওজন বাড়াবেন না সাথে আপনাকে কাজ করার ক্ষমতা হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালরি প্রদান করবে।
আইরনঃ
মানবদেহের জন্য আইরন বিশেষ একটি উপাদান। যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিশেষ করে মহিলাদের আইরনের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে আইরনের অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। তাই কিশোরী ও মহিলাদের প্রতিদিন শুকনো কিসমিস বা কিসমিস ভেজানো পানি খাওয়া উত্তম। এছাড়াও এটি স্বাভাবিক দুর্বলতা কাটাতে এবং হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
কিসমিসের উপকারিতা
- আমাদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালরি প্রদান করে। যা আমাদের কাজ করার ক্ষমতা যোগায়।
- পানিসূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।
- হৃদপিন্ডের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- কিসমিসে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম হার ও দাঁতকে মজবুত করে। এবং ক্যালসিয়াম ঘাঁটিজনিত সমস্যা দূর করে।
- সোডিয়াম ও পটাশিয়াম এর ভারসাম্য রক্ষাতে কিসমিসের তুলনা অপরিসীম।
- কিসমিসের বিদ্যমান ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং হজম ক্রিয়া বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
- কিসমিস এ বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান আমাদের মস্তিষ্কে সেরোটোনির নামক হরমোন উৎপাদন করে। যা আমাদের মানসিকভাবে প্রফুল্লতা প্রদান করে এবং মনকে ভালো রাখে।
- স্বাভাবিক দুর্বলতা দূর করতে ে কিসমিস অত্যন্ত কার্যকর।
- খাবারের অরুচি দূর করে।
- কিসমিস এ বিদ্যমান ভিটামিনসমূহ আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। যা শরীরে ভিটামিন এর চাহিদা পূরণ করে এবং ভিটামিন জনিত রোগ প্রতিরোধ করে।
- কিসমিস ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
- শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এর তুলনা নেই।
- রক্ত শুন্যতা দূর করতে কিসমিস এ থাকা আইরন বিশেষভাবে কাজ করে।
- পুরুষদের পুরুষত্ব ও যৌবন ধরে রাখতে নিয়মিত কিসমিস খাওয়া উচিত।
- উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
- রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।
কিসমিস এর অপকারিতা
আমরা জানি যে কিসমিস এ অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিসমিস খাওয়ার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।যেমন গর্ভকালীন সময়ে কিসমিস খেলে হজমে কিছুটা সমস্যা দেখা দিতে পারে কারণ এতে ফাইবার রয়েছে।এছাড়াও যাদের হজমে অসুবিধা রয়েছে তাদের কিসমিস খাওয়ায় পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা কিসমিস খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন কারণ এতে চিনির পরিমাণ অনেকটা বেশি।এবং যাদের শরীরে পটাশিয়াম এর লেভেল বেশি তারা কিসমিস খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হোন।
কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা
কিসমিসের উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সবাই প্রায় কিছু জানি। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে কিসমিস ভেজানো পানিতেও রয়েছে উপকারিতা। কিসমিস ভেজানো পানি শরীরে ভিটামিন ও মিনারেল এর চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি এটি আমাদের শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে। চলুন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
- কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে আইরন রয়েছে যা আমাদের শরীরে রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।
- কিসমিসে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম আমাদের শরীরের হাড় ও দাঁত কে মজবুত রাখতে সাহায্য করে
- শরীরে পটাশিয়াম এর চাহিদা পূরণ করতে কিসমিসের অবদান অনন্য
- স্বাভাবিক দুর্বলতা দূর করতে কিসমিস সাহায্য করে
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
- চুল ও ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কিসমিস অত্যন্ত কার্যকরী
- উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে
- ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
- রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে
- কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় এটি হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত
অতিরিক্ত কোন কিছুই আমাদের শরীরের জন্য ভালো নয়। আমরা জানি কিসমিসের অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরী। তবে অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়া একদমই উচিত নয়। এতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে গড়ে ১০০ থেকে দেড়শ গ্রাম কিসমিস খাওয়া উচিত।
সেক্সে কিসমিসের উপকারিতা
আমরা ইতিপূর্বেই কিসমিসের উপকারিতা সম্বন্ধে জেনেছি। এখন আমরা জানবো সেক্সে কিসমিসের উপকারিতা গুলো কি কি। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক সেক্সে কিসমিসের উপকারিতা সম্বন্ধে-
- যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তারুণ্য ধরে রাখে
- শুক্রানুর পরিমাণ বৃদ্ধি করে
- হার্ট ভালো রাখে
- রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে
- কিসমিস ও মধু পুরুষদের যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে
- কিসমিসে থাকা আইরন ও লৌহ দুর্বলতা দূর করে
- পুরুষদের পোস্টেড ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কিসমিস সাহায্য করে
- মনকে প্রফুল্ল রাখতে কিসমিস সাহায্য করে
রাতে ঘুমোনোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়
কিসমিসে রয়েছে অসংখ্য পুষ্টিগুণ। আমরা এ সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি। এখন আমরা জানবো রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয় সে সম্পর্কে। চলুন জেনে নেওয়া যাক রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়-
- ঘুম ভালো হয়
- মস্তিষ্ককে শান্ত রাখে
- ওজন কমাতে সাহায্য করে
- হাড় মজবুত করে
- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
- দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে ও
- অনিদ্রা দূর করে
শেষ কথা
উপরের আলোচনা সাপেক্ষে এতক্ষণে নিশ্চয় কিসমিসের উপকারিতা এবং কিসমিস খেলে আপনার শরীলে কি কি উপকারে আসবে জানতে পেরেছেন।এই পর্বে আপনি যদিও দুঃখিত হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দেবেন।